ইরান-মার্কিন আলোচনার পরবর্তী গন্তব্যও ইসলামাবাদ: চার দশকের বৈরিতা ঘোচাতে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সাফল্য
ইসলামাবাদ ডেস্ক: ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য আবারও পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদকেই প্রস্তাব করা হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম দফার বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত বড় সাফল্য (breakthrough) না আসলেও, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের পথ পুরোপুরি উন্মুক্ত রয়েছে, যা শান্তির ক্ষেত্রে একটি বড় ‘আশার আলো’ হিসেবে দেখা দিচ্ছে ।
১. যুদ্ধবিরতি ও যোগাযোগের পথ: প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে, যা আলোচনার জন্য একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে । পাকিস্তান প্রথম দফার বৈঠকের পরেই জানিয়েছিল যে, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের পথ কোনোভাবেই বন্ধ হতে দেওয়া যাবে না। বর্তমানে ওয়াশিংটন এবং তেহরান—উভয় পক্ষই স্বীকার করেছে যে তাদের মধ্যে যোগাযোগের লাইন এখন সচল রয়েছে ।
২. প্রথম দফার ফল: ব্যর্থতা নয়, বরং একটি প্রক্রিয়া: ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ২৪ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, চার দশকের দীর্ঘ শত্রুতা ও অমীমাংসিত সমস্যাগুলো একদিনের বৈঠকে সমাধান করা অসম্ভব । তাই প্রথম দফার বৈঠকে কোনো বড় চুক্তি না হওয়ায় একে ‘আলোচনা ভেঙে যাওয়া’ (breakdown) হিসেবে দেখা হচ্ছে না । বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার শুরু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ।
৩. মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের অনন্য অবস্থান: মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের এই অগ্রণী ভূমিকার পেছনে দেশটির চমৎকার কূটনৈতিক কৌশল কাজ করছে। ইরানের সাথে পাকিস্তানের যেমন ঐতিহাসিক ধর্মীয় ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, তেমনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কাছেও বর্তমান পাকিস্তানি নেতৃত্বের বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে । প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ট্রাম্প পাকিস্তানের বর্তমান ‘ফিল্ড মার্শাল’ এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অত্যন্ত সন্তুষ্ট এবং এই সুসম্পর্কই পাকিস্তানকে এই সংকট নিরসনে একটি কেন্দ্রীয় অবস্থানে নিয়ে এসেছে ।
৪. নেপথ্যে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক জোট: পাকিস্তানের এই একক প্রচেষ্টার পেছনে সৌদি আরব, তুরস্ক, কাতার এবং বিশেষ করে চীনের সরাসরি সমর্থন ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে । এই দেশগুলোর সম্মিলিত সমর্থন পাকিস্তানের এই শান্তি উদ্যোগকে আন্তর্জাতিকভাবে বৈধতা ও শক্তি যুগিয়েছে ।
৫. দ্বিতীয় দফার প্রস্তুতি ও কারিগরি বিশেষজ্ঞ: দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য ইতোমধ্যে একটি ‘সতর্ক ইতিবাচক’ (cautious optimism) পরিবেশ তৈরি হয়েছে । ইরান ইতোমধ্যে তাদের একটি বিমানে করে কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে, যা নির্দেশ করে যে তারা বেশ কিছু বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী । ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমান যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই আলোচনার মাধ্যমে একটি বড় সংকটের সমাধান বের করা সম্ভব হবে ।
সারসংক্ষেপে, ইসলামাবাদ এখন ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার বরফ গলানোর প্রধান ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সমন্বয়ে একটি স্থায়ী শান্তির পথ খোঁজা হচ্ছে ।
