মারাদোনার মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য: মেডিকেল টিম কি দায়ী? পুনরায় শুরু বিচার
মারাদোনার মৃত্যু রহস্য: আর্জেন্টিনায় মেডিকেল টিমের বিরুদ্ধে পুনরায় শুরু হলো ‘হত্যাকাণ্ড’ মামলার বিচার
বুয়েনস আইরেস ডেস্ক: আর্জেন্টিনার ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনার মৃত্যুর প্রায় ছয় বছর হতে চললেও তাকে ঘিরে রহস্য এবং আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হওয়ার পথে থাকা এই ফুটবল তারকার মৃত্যুতে চিকিৎসকদের চরম অবহেলা ছিল কি না, তা নির্ধারণে আবারও শুরু হয়েছে বিচার প্রক্রিয়া । আল জাজিরা ইংলিশের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিস্তারিত চিত্র।
১. কাঠগড়ায় মেডিকেল টিম: মারাদোনার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা নিউরোসার্জন, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং নার্সসহ পুরো মেডিকেল টিমের বিরুদ্ধে ‘হত্যাকাণ্ডের’ (Homicide) অভিযোগ আনা হয়েছে । প্রসিকিউটরদের দাবি, মৃত্যুর কয়েকদিন আগে মারাদোনাকে যে ধরনের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছিল তা ছিল অত্যন্ত ‘অপ্রতুল’ এবং তার শারীরিক অবস্থার অবনতির প্রতিটি সতর্ক সংকেত বা ওয়ার্নিং সাইন চিকিৎসকরা সচেতনভাবে এড়িয়ে গেছেন ।
২. পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ: মামলার প্রসিকিউটররা স্থানীয় গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়া বেশ কিছু অডিও ক্লিপকে প্রধান প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন । তাদের অভিযোগ, চিকিৎসকরা মারাদোনাকে তার পরিবার থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিলেন । মারাদোনার পরিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে চাইলেও চিকিৎসকরা কেবল নিজেদের ‘ব্যক্তিগত মুনাফা’ বা লাভ বজায় রাখার স্বার্থে তাকে বাড়িতেই আটকে রেখেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে ।
৩. ‘দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণা’ ও মেডিকেল বোর্ডের পর্যবেক্ষণ: মারাদোনার মৃত্যু তদন্তে গঠিত মেডিকেল বোর্ড এক ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে যে, ফুটবল ইতিহাসের এই মহানায়ক মৃত্যুর আগে “অস্পষ্ট ও দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণার” (unmistakable signs of prolonged agony) শিকার হয়েছিলেন । এই তথ্যটি মারাদোনার ভক্তদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখের সৃষ্টি করেছে।
৪. স্থগিত হওয়া বিচার ও বিতর্ক: গত বছরই এই মামলার বিচার কাজ শুরু হয়েছিল, কিন্তু এক নজিরবিহীন ঘটনায় তা স্থগিত করা হয় । আদালতের একজন বিচারক অবৈধভাবে এজলাসের ভেতরে ক্যামেরা প্রবেশ করিয়ে একটি ‘অননুমোদিত তথ্যচিত্র’ নির্মাণের সুযোগ দিয়েছিলেন । এই গুরুতর অনৈতিক কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট নারী বিচারককে আর্জেন্টিনার বিচার বিভাগ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে ।
৫. ভক্তদের বিচার দাবি: মারাদোনার মৃত্যুর বিচার নিশ্চিত করতে আদালতের বাইরে ভিড় করেছেন শত শত ভক্ত। বেয়াত্রিচ পেদেস নামে একজন ভক্ত তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “দিয়েগো আমাদের কাছে এক অন্তহীন ভালোবাসার নাম। তিনি যাতে পরপারে শান্তিতে থাকতে পারেন, সেজন্য এই ন্যায়বিচার পাওয়া খুবই জরুরি” ।
জীবদ্দশায় মারাদোনাকে নিয়ে যেমন উন্মাদনা ছিল, মৃত্যুর ছয় বছর পরও তাকে ঘিরে এই আইনি লড়াই প্রমাণ করে যে, আর্জেন্টিনার মানুষের হৃদয়ে তিনি আজও কতটা জীবন্ত । এই বিচার প্রক্রিয়াটি কেবল আইনি লড়াই নয়, বরং মারাদোনার অগণিত ভক্তের কাছে এটি একটি মানসিক প্রশান্তি বা ‘ক্লোজার’-এর বিষয় ।
