৩০ দিনে সুঠাম দেহ ও ওজন বৃদ্ধির বৈজ্ঞানিক উপায়: পুষ্টিবিদদের বিশেষ গাইডলাইন
লাইফস্টাইল ডেস্ক: বর্তমান সময়ে কেবল মেদ কমানো নয়, বরং স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে ওজন বাড়িয়ে নিজেকে সুঠাম করে তোলা অনেকের কাছেই বড় চ্যালেঞ্জ। পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আজেবাজে তেল-চর্বি খেয়ে ভুঁড়ি বাড়ানো ওজন বৃদ্ধির সঠিক উপায় নয়; বরং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে মাত্র ৩০ দিনেই একটি সুঠাম ও আকর্ষণীয় দেহ গঠন করা সম্ভব ।
১. ওজন বৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি—‘ক্যালোরি সারপ্লাস’: ওজন বাড়ানোর সবচেয়ে সহজ গাণিতিক নিয়ম হলো শরীর প্রতিদিন যতটা শক্তি খরচ করে, তার চেয়ে বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করা । স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি একজন ব্যক্তি দিনে ২০০০ ক্যালোরি খরচ করেন, তবে তাকে অন্তত ২৫০০ থেকে ২৭০০ ক্যালোরি গ্রহণ করতে হবে । এই অতিরিক্ত ক্যালোরি পেতে ভাতের থালায় কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি আলু এবং ঘন ডাল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে । এছাড়া একবারে বেশি না খেয়ে প্রতি ৩ ঘণ্টা অন্তর অল্প অল্প করে খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে ।
২. পেশিবহুল শরীরের জন্য প্রোটিনের গুরুত্ব: ওজন বাড়ানো মানে কেবল চর্বি জমানো নয়; শরীরকে স্মার্ট ও সুঠাম দেখাতে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার অপরিহার্য । প্রোটিন হলো বডি তৈরির মূল উপাদান, যা শরীরকে থলথলে হওয়া থেকে রক্ষা করে । এজন্য প্রতিদিন অন্তত দুটি করে আস্ত সেদ্ধ ডিম, মাছ বা চিকেন ডায়েটে রাখতে হবে । যারা নিরামিষভোজী, তারা পনির, সয়াবিন এবং ডাল থেকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন সংগ্রহ করতে পারেন ।
৩. ওজন বাড়াতে ‘ম্যাজিক শেক’: খাবারের পাশাপাশি দ্রুত ওজন বৃদ্ধিতে প্রায় ৮০০ ক্যালোরির একটি বিশেষ পানীয় বা টনিকের কথা বলা হয়েছে । এটি তৈরিতে প্রয়োজন হবে একটি বড় পাকা কলা, এক গ্লাস ফুল ক্রিম দুধ, গুঁড়ো করা ওটস, এক চামচ পিনাট বাটার বা এক মুঠো চিনা বাদাম এবং মিষ্টির জন্য তিনটি খেজুর বা মধু । এই উপাদানগুলো একসাথে ব্লেন্ড করে বিকেলে বা রাতে ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে খেলে শরীরে দ্রুত পুষ্টি পৌঁছায় এবং ওজন বৃদ্ধি পায় ।
৪. হজম শক্তি ও লিভারের যত্ন: অনেকের অভিযোগ থাকে যে তারা প্রচুর খেলেও শরীরে লাগে না। এর প্রধান কারণ হলো দুর্বল হজম শক্তি বা লিভারের সমস্যা । লিভার ঠিকভাবে কাজ না করলে ডাইজেস্টভ সিস্টেমে প্রভাব পড়ে এবং খিদে কমে যায় । হজম ক্ষমতা বাড়াতে প্রতিদিন সকালে ইসবগুলের ভূষি বা জোয়ান ভেজানো পানি খাওয়া যেতে পারে । এছাড়া লিভারকে ডিটক্সিফাই ও শক্তিশালী করতে ‘ফাইটিকার ফিট লিভার’-এর মতো হার্বাল সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে, যাতে মিল্ক থ্রিস্টাল, কুটকি এবং পুনর্নভার মতো উপাদান রয়েছে । এটি নিয়মিত সেবনে খাবার দ্রুত হজম হয় এবং শরীর পুষ্টি শোষণ করতে পারে ।
৫. ঘরোয়া ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত ঘুম: অনেকে মনে করেন রোগা শরীরে ব্যায়াম করলে হাড় বেরিয়ে যাবে, যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা । ব্যায়াম করলে খাবার শরীরের সঠিক স্থানে পৌঁছায় । এজন্য জিমে না গিয়েও বাড়িতেই ‘ডন-বৈঠক’ (পুশআপ) এবং ‘উঠবস’ (স্কোয়াড) করা যেতে পারে, যা শরীরের ন্যাচারাল টেস্টোস্টেরন লেভেল বাড়িয়ে দেয় । পাশাপাশি মনে রাখতে হবে, শরীর ঘুমের মধ্যেই বডি বানানোর মূল কাজ সারে; তাই প্রতিদিন অন্তত ৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের প্রয়োজন ।
৬. বিশেষ কিছু টিপস: পকেটে সবসময় কিসমিস ও কাঠবাদাম রাখা উচিত, যা কাজের ফাঁকে ফাঁকে খেলে দ্রুত ওজন বাড়ে । এছাড়া খাওয়ার ঠিক আগে বা খাওয়ার মাঝে পানি পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ এতে পেট দ্রুত ভরে যায় এবং বেশি খাওয়া সম্ভব হয় না [৬]। পানি পান করার আদর্শ সময় হলো খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট পর ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন বাড়ানো কোনো জাদুমন্ত্র নয়, বরং এটি একটি সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া । ধৈর্য ধরে অন্তত ৩০ দিন এই নিয়মগুলো পালন করলে শরীর ও স্বাস্থ্যের দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে ।
